মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ (আদিব হুজুর)। পরিচিতি

✧ আবু তাহের মিছবাহ।
১৯৫৬ সালের ৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা মাওলানা মিছবাহুল হক একজন দুনিয়াবিমুখ খোদাভীরু আলেম ছিলেন।
মাতা সত্যিকারের নেককার ও সম্ভ্রান্ত মহিলা।
দেশের বাড়ী কুমিল্লা জেলায়।
পারিবারিকভাবে তাঁরা ঢাকায় বাস করতেন।
মায়ের কাছেই হুযুর পড়াশোনা আরম্ভ করেন।
ছোটবেলায় হুযুরের আম্মা হুযুরকে আরবীও পড়িয়েছেন।
পরে ভর্তি হন জামেয়ো কোরআনিয়া, লালবাগ মাদরাসায়।
কুরআন হিফয করেন এখানেই।
হাফেজ্জী হুযুর রহ. প্রতিষ্ঠিত নূরিয়া মাদরাসায় দরসে নিযামী পড়েন।
একসময় আবার চলে আসেন লালবাগে।
হিদায়া জামা‘আত সম্পন্ন করে আপন উস্তায মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ মুহাদ্দিছ ছাহেব হুযুরের নির্দেশে চলে যান জামিয়া পটিয়ায়।
সেখানে ১৯৭৭ সালে দাওরাতুল হাদীস সমাপ্ত করেন।

হুযুরের শিক্ষকজীবনের যাত্রা শুরু হয় ঢাকা যাত্রাবাড়ী মাদরাসায়।
পরে কিছুদিন মালিবাগ জামিয়ায় অধ্যাপনা শেষে হাফেজ্জী হুযুর রহ.-র নির্দেশে নূরিয়া মাদরাসায় আসেন এবং একাধারে ২৫ বছর শিক্ষকতা করেন।
১৯৯২ সালে নূরিয়া মাদরাসা ছেড়ে হুযুরের আব্বা ও হাফেজ্জী হুযুরের দু‘অায় এবং পরমপ্রিয় উস্তায আল্লামা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ.-র নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করেন মাদরাসাতুল মাদীনাহ্।
সেখানে জন্ম হয় মাদানী নেসাবের।
কর্মজীবনের শুরুতে আদীব হুযুর বেশ কিছুদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কাজ করেছেন।
জীবনের প্রথম অযীফা তিনি এখান থেকেই লাভ করেন।
হুযুরের রচিত অধিকাংশ কিতাব প্রথমে মোহাম্মদী লাইব্রেরী হতে বের হয়।
বর্তমানে তাঁর সমস্ত কিতাব নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দারুলকলম হতে প্রকাশ পায়।
হাফেজ্জী হুযুরের বড়ছেলে আহমদুল্লাহ আশরাফ সাহেবের কন্যাকে বিবাহ করেছেন।
একছেলে দু‘মেয়ের গর্বিত জনক তিনি।
ছেলে মুহম্মদকে গড়ে তুলেছেন তাঁর স্বপ্নপূরণের পরম সারথিরূপে। মুহম্মদ বিন মিছবাহ্ বর্তমানে বিবাহিত। বাবার সুসন্তান।
উভয় মেয়েকে তুলে দিয়েছেন যোগ্য দু‘জন আলিমে দ্বীনের হাতে।
বড়জামাই হাবীবুর রহমান মুনীর-কে গড়ে তুলছেন জীবনসংগ্রামের সহযোদ্ধারূপে সেই ছোটবেলা থেকে।
নূরিয়ার শিক্ষকজীবনে হুযুর ইক্বরা নামে আরবী মাসিক বের করেন।
যা পরবর্তীতে আলকলম আরবী পত্রিকা নামে বের হয়।
এছাড়া ১৯৯৯ সালে তাঁর হাতে জন্ম লাভ করে বাংলা আলকলম পত্রিকা।
যা পুষ্প ডাকনামে সাহিত্যের দিশারী হয়ে আজো পর্যন্ত নবীন ও কঁচিকাঁচাদের সাহিত্যচর্চার রাহনুমায়ী করছে।
এখন পর্যন্ত পুষ্প তার তৃতীয় প্রকাশনাকাল অতিক্রম করছে।
✧ আবু তাহের মিছবাহ্।
সুবিদিত নাম \\ সবার কাছেই পরিচিত।
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এক অধ্যায়ের নাম আদীব হুযুর।
বাঙালি আলিমসমাজ যাঁরা মাতৃভাষায় ইসলামচর্চার পথিকৃৎ, তিনি তাঁদের মাঝে এক অবিনাশী চেতনার আঁতুরঘর।
দেশের শীর্ষস্থানীয় আলিমে দ্বীন।
মানুষ গড়ার প্রবাদপুরুষ।
জীবনভর সাধনারত আছেন উম্মাহ ও ইলমী অঙ্গনের উন্নতির প্রচেষ্টায়।
আরবী ভাষা নিয়ে নিরন্তর ফিকিরকামী এ আত্মনিবেদিত মহান সাধক জীবনের সোনালি মুহূর্তগুলো বিকিয়ে দিয়েছেন শ্রম, সাধনা ও ত্যাগের উপাখ্যান তৈরিতে।
জীবনের প্রভাততারা ও সন্ধ্যাতারার ভূমিকায় ছিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ.।
পটিয়ায় অধ্যয়নকালীন তাঁর জীবনের আলোকবর্তিকারূপে আবির্ভূত হন আল্লামা সুলতান যাওক নাদাবী দা.বা.।
আরবীভাষার যা কিছু যাওক ও রুচি হুযুর লাভ করেছেন, তার শিকড় প্রোথিত হয় যাওক ছাহেব হুযুরের সান্নিধ্যেই।
জীবননদীর বহতা স্রোতে শিক্ষকদের আদব রক্ষায় থেকেছেন সদা তৎপর; ফলস্বরূপ ভূষিত হয়েছেন যাওক ছাহেবের প্রিয়ছাত্র-র অভিধায়। বরিত হয়েছেন উস্তাযদের মুখনিঃসৃত নানা প্রার্থনায়।

সময় এবং সময়ের ভগ্নাংশবলীর হিফাযতে যত্নবান
মনোভাব লালন করে আসছেন জীবন বিনির্মাণের রাঙাপ্রভাত থেকেই।
সূচনালগ্নেই পণ বেঁধেছেন সূচীবদ্ধ সুশৃঙ্খল জীবন গঠনের।
হাতে নিয়েছেন শিক্ষাসংস্কারের ‘‘সিন্দাবাদী হাল’’।
এগিয়ে চলেছেন সংস্কারধর্মী অনির্বাণ মশাল হাতে।
আধুনিক ও সংস্কারবাদী ‘মুজাদ্দিদ’ বলে প্রথমেই ‘‘ভালোমন্দ’’ শুনেছিলেন অনেক পরিচিত ও অপরিচিত সজ্জন পুরুষদের কাছ থেকে।
কটাক্ষের ঢেউ ধেয়ে চলেছে তখন থেকেই।
সমালোচনার সূতিকাগারে পরিণত হয়েছিলেন একদিন। থমকে যাননি। রুখে দাঁড়িয়েছেন তবুও। এগিয়ে গেছেন দরদী মালীর বেদনা নিয়ে ও ভালোবাসা ছড়িয়ে। শুধু এক নতুন ভোরের আশায়। একটি সুন্দর সকালের প্রতীক্ষায়।

যারা কটাক্ষের অতিশয়তায় মুখ ফিরিয়েছিলেন তাদের অনেকেই তাঁকে সাদরে বরণ করে নিয়েছেন। সাফল্যের নিশান সবে উড়াতে শুরু করেছেন তিনি। মানযিল অনেক দূর। এখনো অনেকটা পথ বাকি। তাই তিনি থেমে নেই । অবিরাম চলেছেন ভবিষ্যতের দিকে। সেই ত্যাগ-সাধনার ধোঁয়ায় সাফল্যের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে অনেকে। খ্যাতির আকাশে কখনও উড়েননি। তিনি চান না সেই আকাশে উড়তে। খ্যাতি দিয়ে মানুষ মাপা যায় না তা তিনি জানেন ভালো করেই। তাই নির্জনতা তাঁর প্রিয় সঙ্গ। সেখানে বন্ধু কেবল কলম ও কালি। জ্ঞান ও কর্মরাই সেখানে সন্ধ্যাপ্রদীপ।
তারাই সেই নিঃসঙ্গতাকে আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলে।
তবু মহৎজনদের কর্ম, ত্যাগ ও অবদান চাপা পড়ে থাকে না। দিগন্তবিস্তৃত আলো ছড়ায় সূর্যের সারথি হয়ে। জগতজুড়ে খুশবু বিলায় গোলাপের আরশি হয়ে।
তাঁর আলোয় দিগন্ত ছেয়ে যাবে উজ্জল চাঁদোয়ায়।
তাঁর কর্মসুবাস সৃষ্টিজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে মায়াবী মুখরতায়।

Post a Comment

0 Comments