সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীরের কবিতা 'বক্তা নামের বাঁশিওয়ালা'

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ বক্তা বললেন—
একবার সোবহানাল্লাহ বলবেন আর সঙ্গে সঙ্গে আমলনামায়
লেখা হবে ২০ লক্ষ তরুতাজা নেকি, বলেন সোবহানাল্লাহ
মহফিলে দলে দলে যোগদান করা হাজার দশেক শ্রোতা
সমস্বরে বলে উঠলেন—সোবহানাল্লাহ!

মহফিলের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা সকলের অ্যাকাউন্টে
বিশ লাখ বিশ লাখ নেকি জমা করে দিলেন

মহফিলের আলো ঝলমলে গেটের পাশে এক ভিখারি বসা
মহফিল উপলক্ষে বাড়তি কামাই, মুফতে একপেট খিচুরি
বসে আছে সন্ধ্যার পর থেকেই, কিন্তু রোজগার জমছে না
শীত মানছে না বিড়িপোড়া চাদরটায়, লোক আসা-যাওয়া করে
মরিচবাতির ঝকমারিতে মহফিল উজালা, কিন্তু পেট বুভুক্ষা
ওপাড়ের রাস্তায় ভাজা হচ্ছে বেগুনি আর পেঁয়াজু, ঘ্রাণ আসে
ছেলেপেলে হুল্লোড় করে কামড় বসায়, মুড়মুড়ে আওয়াজ পায়

রাত আটটায় ছুটি হওয়া গার্মেন্টসে কাজ করা মেয়েটা
বাসায় ফিরতে ফিরতে সাড়ে নয়, ওড়নায় বড় একটা ঘোমটা টান
সাদা টুপি আর পাঞ্জাবির ভিড়ে আড়ষ্ট পা, বুকে দীর্ঘশ্বাস
ঠিকঠাক নামাজটা হয় না, ওয়াজটা শোনা হয় না
ছেলেটা বড় হলে মাদরাসায় দিয়ে দেবো, নামাজ-সুরা শেখা হবে
রোজ হাশরে একটা উসিলা তো দাঁড় করানো যাবে আল্লাহর সামনে
ভিখারির বাটিতে টং করে জমা হয় দুটো পাঁচ টাকার আধুলী

ওয়াজ শেষে প্রাইভেট কারের পেছনের সিটে হেলতে দুলতে থাকা
ইসলামি চিন্তাবিদ বললেন, ‘ছ্যাচড়ার দল! মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার দিলো! 
আলেম-উলামার সম্মান দিতে জানে না, আসছে ওয়াজ করাইতে!’

মহফিলের দায়িত্বশীল ফেরেশতা দলে দলে যোগদান করা সকল শ্রোতার অ্যাকাউন্ট থেকে তৎক্ষণাৎ বিশ লাখ বিশ লাখ নেকি মাইনাস করে গার্মেন্টসের মেয়ের অ্যাকাউন্টে জমা করলেন দুই হাজার কোটি নেকির ফিক্সড ডিপোজিট 
১০,০০০ x ২০,০০,০০০ = ২০,০০০,০০০,০০০

চিন্তাবিদের পাপের অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই ভরপুর
তার নেকির অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন সংশ্লিষ্ট ফেরেশতা

Post a Comment

0 Comments