স্বাধীনতার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা তর্কবাগীশ রহ.-এর ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাহাঙ্গীর রায়হান: আজ ২০ আগস্ট। ১৯৮৬সালের এইদিনে মৃত্যুবরণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা, তুখোড় রাজনীতিবিদ মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ রহ.।
মাওলানা তর্কবাগীশ। যিনি ছিলেন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে এক সাহসী নাম। কৈশোর থেকেই তাঁর কাছে ঠাঁই পায়নি কোন অন্যায়। তেরো বছর বয়সের জমিদারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে দুধ দিতে বাধ্য করেন। জীবনের প্রতিটি ধাপ কেঁটেছে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। দেশ জাতির তরে আজীবন লড়েছেন সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পীর পরিবারের সৈয়দ আবু-ইসহাক রহ. এর ঔরসজাত সন্তান মাওলানা আবদুর রশীদ।

১৯০০সালের ২৭শে নভেম্বর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার তারুটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দেশ জাতির পরম এই বন্ধু। বলা হয়ে থাকে ১৩০৩সালে তাঁর পূর্বপুরুষ শাহ সৈয়দ দরবেশ মাহমুদ রহ. ইসলাম প্রচারের জন্য বাগদাদ থেকে বাংলাদেশে হিজরত করেন। তিনি বড়পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহ. এর বংশধর ছিলেন।

১৯১৯সনে ১৯বছরের যুবক আবদুর রশীদ জড়িয়ে পড়েন খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দলনে। সলংগার আন্দোলনে নেতৃত্বদান করে ১৯২২ সনে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে সলংগার আন্দোলন “রক্তসিঁড়ি” নামে খ্যাত।

লেখাপড়া করেছেন বেরেলি ইশতুল মাদ্রাসা,সাহারানপুর মাদ্রাসা, দারুল উলূম দেওবন্দ ও লাহোরের ইশাতুল কলেজে।

তর্কশাস্ত্রে পান্ডিত্য লাভ করায় তাঁকে “তর্কবাগীশ” খেতাবে ভূষিত করা হয়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে ছিল মাওলানার ঘনিষ্ট সম্পর্ক। ১৯৩৮সালে সোহরাওয়ার্দীর সাথে ভারত-আসামে সাংগঠনিক কাজে আত্মনিয়োগ করেন।১৯৪৬সালে বঙ্গীয় আইন পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৩৭সালে ১৪৪ধারা ভঙ্গ করে নাটোরে কৃষক সম্মেলন আহ্বান করেন।

সোহরাওয়ার্দীর সভাপতিত্বে গঠিত ইউনাইটেড মুসলিম পার্টির সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিখিল ভারতে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠা করেন “কৃষক সমিতি” ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।

১৯৫২সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের যোগদানকারী ছাত্রদের উপর হামলার সংবাদ পেয়ে প্রাদেশিক পরিষদ থেকে বের হয়ে অংশগ্রহণ করেন ভাষা আন্দোলনে। তিনিই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি ১৯৫৫সালের ১২ই অগাষ্ট পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলায় বক্তৃতা দেন। ১৯৫২সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি তিনি গ্রেফতার হন।

তিনি ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৭সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আন্দেলন সংগ্রামের এই প্রাণপুরুষ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা এই মাওলানা রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি শানিত রেখেছেন স্বীয় কলমকে। তিনি একজন সুসাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, শেষ প্রেরিত নবী, সত্যার্থে ভ্রমণে, ইসলামের স্বর্ণালী যুগের ছিন্ন পাতা, সমকালীন জীবনবোধ, স্মৃতির সৈকতে আমি, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ইত্যাদি। ২০০২সালে তিনি মরণত্তোর “স্বাধীনতা পদক” লাভ করেন।

Post a Comment

0 Comments