ইমাম সাহেব রহ.



মাওলানা জুনাইদ কিয়ামপুরী: আজ ৮ই নভেম্বর। ২০০৫ সালের এই দিনে মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে যান বাংলার আধ্যাত্মিক রাহবর, আমাদের চেতনার বাতিঘর ইমাম আকবর আলী রহ,। আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি ক্ষণা তাঁর কাছে ঋণী। আমাদের বোধির জাগরণে তাঁর অবদান অপরিসীম।

ছাত্রকালে হজরতের জীবদ্দশায় তাঁর শানে একটি কবিতা লিখিছিলাম।এই কবিতাটি হজরতের সামনেও গিয়েছিল।পাঠ করেছিলেন কি না জানি না।তবে দেখেছিলেন।আজ হজরতের প্রয়াণ দিবসে কবিতাটি একটু কাটছাঁট করে প্রকাশ করলাম। 

পঁচাশীও পেরোলে তুমি একা-একা নিভৃত অনাড়ম্বর
কবিতা শিল্পের মতো খুঁতখুঁতে মার্জিত সুন্দর।
জ্ঞানে-গুণে ইলমে আমলে প্রজ্ঞায় মনীষায়
সময়ের সীমাভেদী উঠিয়াছো অপার উচ্চতায়।
সে যুগের জুনাইদ শিবলী, 
এ-যুগের থানভি মাদানী
তাদেরই আধ্যাত্ম আয়ুধে উজ্জ্বল
তোমার শক্তি সঞ্জীবনী।
অষ্টপ্রহর প্রেমমগ্ন এশকের জায়নামাজে সিজদারত
মায়াবী শরীরের ভেতর আল্লাহু-আল্লাহু কীর্তন অবিরত।
এই চূর্ণকাল এই ভস্মময় এই উচ্ছন্ন সময়ে
তোমার চেতনা স্পন্দিত হয় 
মাটি ও আকাশের চরাচরে।
হে মহান হে শক্তিমান!
তুমার তুলনা কিসে
তুমার উপমা কিসে?

আমি দেখেছি তুমায় পাহাড়ের অটলতায়
সাগরের গভীরতায় ঝরনার প্রবহমানতায়
আকাশের উদারতায়, বাতাসের বহমানতায়
সত্য সুন্দরের নিমগ্নতায়, আত্মার পরিশুদ্ধতায়
তুমি তুমার মতোই দার্ঢ্য।
সগৌরবে গর্বিত শুভ্রমৌলি সুষমায় সুরভিত
তুমি বেঁচে থাকো ততদিন,
 যতদিন রবি-শশি থাকে ঝলকিত।

বন্ধু! তুমি হয়তো মাটির মানুষের গল্প শোনেছ, কিন্তু ইমাম আকবর আলী রাহিমাহুল্লাহকে দেখ নাই, দেখলে সহজেই চিনে নিতে মাটির মানুষ কাকে বলে। তুমি হয়তো আকাশের বজ্রনিনাদ শোনেছ, সমুদ্রগর্ভ থেকে ফুঁসে ওঠা তরঙ্গের শাঁ শাঁ গর্জন শোনেছ, কিন্তু আমাদের এই রাহবরকে দেখনাই, দেখলে বুঝে নিতে বাতিলের বুকে আকবরী গর্জন কেমন প্রলয়ঝড় সৃষ্টি করে। হয়তো মায়ের কোলে সমর্পিত ছোট্র শিশুর ঠোটভাঙা ক্রন্দনদৃশ্য দেখেছ, কিন্তু আমার এই উস্তাদের নামাজরত ক্রন্দন দেখ নাই, তাঁর শরীরের ভেতর আল্লাহু আল্লাহু শব্দের কীর্তন শোন নাই, শোনলে আঁচ করে নিতে মাবুদের কাছে বান্দার সমর্পিত হওয়ার আকুলভরা অস্ফূট কান্নার দৃশ্য হৃদয়ে কেমন উত্তাপ সৃষ্টি করে।

তিনি আজ দুরে, বহু দুরে! 
এখন তাঁর কবর জান্নাতের শ্যামল উদ্যান।যদিও তিনি আর ফিরে আসবেন না আমাদের কাছে। তবুও আমরা তাঁকে ভুলে যেতে পারি না।তিনি আছেন আমাদের হৃদয়ে মনের গহীনজুড়ে।২০০৫ সালের এ-দিনে অর্থাৎ ৮-ই নভেম্বর তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে। প্রভুর একান্ত সান্যিধ্যে। আজ রাব্বে করিমের দরবারে শুধু একটাই মিনতি; তিনি যেনো ইমাম আকবর আলীকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন এবং তাঁর কীর্তি ও অবদান চির অম্লান রাখেন। আমিন!

Post a Comment

0 Comments